Saturday, 1 October 2011

সীমান্তে হত্যা সুসম্পর্কের অন্তরায়: বিজিবিপ্রধান

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা পুরোপুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পেয়েছেন বিজিবিপ্রধান মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন।

ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলনের পর শুক্রবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক আনোয়ার বলেন, সীমান্তে হত্যার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য এবং তা দুই দেশের সুসম্পর্ক নষ্ট করছে।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী- বিএসএফের মহাপরিচালক রমন শ্রীবাস্তব সীমান্তে হত্যার ঘটনা কমে আসার তথ্য তুলে ধরে বলেন, "আমরা এটা শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চাই।"

সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলনে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রধান নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

সীমান্তে হত্যার বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, "এ কারণে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা ছিলো, তবে স¤প্রতি দুদেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনার পর তা কমে এসেছে।"

"আমরা আন্তর্জাতিক রীতি মেনে চলি এবং কোনো ভারতীয় অবৈধভাবে সীমান্ত পার হলে আমরা তার ওপর গুলি চালাই না, শুধু গ্রেপ্তার করি," সীমান্তে নিজেদের সহনীয় আচরণ তুলে ধরে তা বিএসএফকেও অনুসরণ করতে বলেন বিজিবিপ্রধান।

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-বিএসএফের মহাপরিচালক রমন শ্রীবাস্তব সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, "হত্যার উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং এটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।"

২০০৯ সালে সীমান্তে নিহতের সংখ্যা ৫৫ হলেও ২০১১ সালে এ সংখ্যা সাত জনে নেমে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি আবারো বলছি, আমরা এটি শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চাই।"

বিএসএফপ্রধান জানান, নিজেদের সংযত করতে ইতোমধ্যেই অনেক এলাকায় প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে বিএসএফ।

সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিএসএফপ্রধান রমন শ্রীবাস্তব।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে ৫৫ বাংলাদেশিকে হত্যা করে বিএসএফ। ২০১০ সালে সংখ্যাটি ছিলো ৩২ জন। তবে চলতি বছরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা সাত।

তিনি দাবি করেন, ২০০৯ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার সময় ৩৭ ভারতীয় এবং ২০১০ সালে ২৩ ভারতীয়কেও হত্যা করে বিএসএফ। তবে ২০১১ সালে এ সংখ্যাটিও পাঁচ জনে নেমে আসে।

রমন জানান, এছাড়া অপরাধীদের হাতে ২০০৯ সালে ১১ বিএসএফ সদস্য আহত হয়। ২০১০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৫৭-তে দাঁড়ায়। ২০১১ সালে অপরাধীদের হাতে এক বিএসএফ সদস্য নিহতসহ ৭৭ সদস্য আহত হয়।

তিনি আরো বলেন, ২০০৯ সালে ৬৮৫ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে বিএসএফ। ২০১০ সালে ১ হাজার ৬৩৮ জনকে এবং ২০১১ সালে ২ হাজার ৩০০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া ২০০৮ সালে সীমান্তের বেড়া কাটার ঘটনা ঘটে ৩৩৩টি, ২০০৯ সালে ৫৬৬টি. ২০১০ সালে ৯২৪টি এবং ২০১১ সালে ৬৩৮টি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/কিউএইচ/এমআই/১৪০০ ঘ.

No comments:

Post a Comment

Post a Comment