Showing posts with label মৌলভীবাজার. Show all posts
Showing posts with label মৌলভীবাজার. Show all posts

Tuesday, 15 March 2011

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তিন শ্রমিককে পেটাল বিএসএফ




কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি | তারিখ: ১৫-০৩-২০১১


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর এলাকায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তিন শ্রমিককে বেধড়ক পিটিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টের ১৮৬৩ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকার ভারতের অংশে বিরোধের জের ধরে ভারতীয় দুই ব্যবসায়ীর লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় ক্যাম্প কমান্ডার আর কে চাকমার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি বিএসএফ দল বাংলাদেশ অংশে অনুপ্রবেশ করে দুই ট্রাকচালক ফারুক মিয়া ও আসিক মিয়া এবং হেলপার মো. সেলিমকে বেধড়ক পেটাতে থাকে।

কর্তব্যরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক জালাল উদ্দীন ও সদস্য বাবুল আহমেদ জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিএসএফ সদস্যরা অতর্কিতে বাংলাদেশে ঢুকে ওই তিন শ্রমিকের ওপর হামলা চালান। পরে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার মনোজ কুমার ঘটনাস্থলে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আহত ট্রাকচালক ফারুক মিয়া ও আসিক মিয়া জানান, তাঁরা ভারতীয় এক ব্যবসায়ীর ইট জিরো পয়েন্টে ট্রাক থেকে খালাস করছিলেন। এ সময় বিএসএফের দলটি তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

বিজিবি ১৪ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল নূরুল হুদা বলেন, বিএসএফের এ আচরণ খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনার প্রতিবাদ করে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।

Wednesday, 25 August 2010

বিএসএফের বাধায় সড়কের উন্নয়নের কাজ আবার বন্ধ




কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি | তারিখ: ২৪-০৮-২০১০


ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তে চাতলাপুর স্থলবন্দরের সড়ক উন্নয়নের কাজ আবার বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বিএসএফের বারবার বাধার কারণে সড়ক উন্নয়নের কার্যাদেশটি বাতিল হতে পারে।

গত রোব ও গতকাল সোমবার দুই দফা চাতলাপুর চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরসংলগ্ন সড়ক উন্নয়নের পিচ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল কাইয়ূম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারিভাবে এ সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করে উন্নয়ন করার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার মোসাদ্দেক আহমদ দরপত্র মোতাবেক কাজ শুরু করে প্রায় ২০০ ফুট রাস্তায় পাথর ও বালু বসিয়েছেন। গত ১০ দিনে বিএসএফের বাধায় ওই সড়কে আর পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা যায়নি।

সওজ কর্মকর্তা জানান, কয়েক দিন আগে বিডিআর ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ সড়কটি ১৮ ফুটের স্থলে ১২ ফুট প্রশস্ত করার দাবি জানায়। বিডিআর রাজি হলে বিএসএফ নতুন করে দাবি জানায়, সড়কটি পুরোপুরি ১২ ফুট করতে হবে এবং রাস্তার পাশে অতিরিক্ত মাটির পথও থাকবে না। গত রোববার সকালে ঠিকাদার ১২ ফুট করে রাস্তার কাজ শুরু করলে বিএসএফের জোর বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ওই দিন বেলা দুইটার দিকে শ্রীমঙ্গলের ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের পরিচালক (অপারেশন) মেজর রাকিবুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মেজর রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, রাস্তা নিয়ে রোববার চাতলাপুর চেকপোস্ট এলাকায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফের মেজর প্রজিত চাকমা আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। এর আগের বৈঠকে বিএসএফ ও বিডিআরের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও বিএসএফ তা লঙ্ঘন করেছে। এ জন্য দফায় দফায় বিএসএফের অন্যায় আপত্তির কারণে চাতলাপুর চেকপোস্ট-সংলগ্ন সড়ক উন্নয়ন কাজটি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।

সওজ কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিএসএফের এ ধরনের আচরণে শেষ পর্যন্ত সওজ কর্তৃপক্ষ সড়কের উন্নয়ন কার্যাদেশ বাতিল করে দিতে পারে।