Wednesday, 18 January 2012

বাংলাদেশিকে নির্যাতনের চিত্র ভারতীয় টিভিতে



ঢাকা, জানুয়ারি ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সীমান্তে এক বাংলাদেশিকে বিএসএফ জওয়ানদের নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রচার করেছে ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি।

বুধবার এই ভিডিওচিত্র প্রচার হলেও ঘটনাটি কিছু দিন আগের বলে টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কাহারপাড়া সীমান্ত তল্লাসি চৌকিতে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে।



এনডিটিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বাংলাদেশিকে নির্দয়ভাবে পেটায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফের সদস্যরা। তার জননাঙ্গে পেট্রোলও ঢেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা এনডিটিভিকে জানায়, নির্যাতনের পর ওই ব্যক্তি সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়।

মুর্শিদাবাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার সীমান্ত রয়েছে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এই ভিডিওচিত্রের উৎস নিয়ে দুই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। একটি হচ্ছে, এক বিএসএফ জওয়ান একটি সাইবার ক্যাফেতে তার মোবাইল সেটে গান লোড করতে এলে সেখান থেকে গোপনে নির্যাতনের ওই দৃশ্য নামিয়ে রাখে সাইবার ক্যাফের লোকজন।

অন্যটি হচ্ছে- গরু চোরাচালানিদের সতর্ক করতে এ ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে বিএসএফ সদস্যরা।

সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতন বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বিএসএফের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে বলেছে, হত্যা এবং অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) বিচার হওয়া উচিৎ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসেবে, গত এক দশকে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনা অসংখ্য।

এক বছর আগে ফেলানী নামে এক কিশোরীকে বিএসএফ গুলি চালিয়ে হত্যা করলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গুলিবিদ্ধ ফেলানীর লাশ দীর্ঘক্ষণ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছিল।

সীমান্তে নির্যাতন বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পর স¤প্রতি বিএসএফকে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র দিয়েছে ভারত সরকার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএইচ/এমআই/২১০০ ঘ. 

No comments:

Post a Comment

Post a Comment