Thursday, 9 February 2012

বিএসএফের গুলিতে সাতক্ষীরায় দুই বাংলাদেশি আহত


সাতক্ষীরা, ফেব্রুয়ারি ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-

সীমান্তে গুলি একেবারে বন্ধ করা যাবে না- বিএসএফ প্রধানের এমন বক্তব্যের দুই দিনের মাথায় সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

বর্ডার গার্ড ৩৮ ব্যাটেলিয়ন (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু বাসির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোরে উপজেলার কাকডাঙ্গা সীমান্তের সোনাই নদীর পাড়ে গুলিবিদ্ধ হন ওই দুই বাংলাদেশি।”

আহতরা হলেন- ইয়াকুব আলী (২৫) এবং আবদুল হামিদ (৩০)। ইয়াকুব কলারোয়ার কেড়াগাছি গ্রামের দাউদ সরকারের ছেলে এবং হামিদ যশোরের শার্শা থানার কায়বা গ্রামের করিম সর্দারের ছেলে। তারা দুজনই রাখাল।

বিজিবির আবু বাসির জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের তারালি ক্যাম্পের সদস্যরা পর পর চার রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এ সময় সীমান্তের সোনাই নদীর পাড়ে (মেইন পিলার ১৩, সাব পিলার ৩-এর রিভার পিলার ৪ এর কাছে) বসে থাকা দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির পক্ষ থেকে গুলির ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তের কালিয়ানি এলাকায় এ ব্যাপারে বিজিবি ও বিএএসএফের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দীর্ঘ দিন ধরে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের হাতে বাংলাদেশি হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে গত বছর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্তে রক্তক্ষয় বন্ধে প্রাণঘাতী নয়-এমন অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে বিএসএফকে।

তবে বিএসএফ প্রধান ইউ কে বনসাল মঙ্গলবার বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গুলি চালানো পুরোপুরি বন্ধ করা কখনোই সম্ভব না। যতক্ষণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অপরাধমূলক কাজ চলতে থাকবে, ততোক্ষণ বিএসএফকে তা আটকাতেই হবে। সেটাই এই বাহিনীর দায়িত্ব।”

এর একদিন পরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশিদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ না করলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে নালিশ করবেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/সিএস/জেকে/১৩০৬ ঘ. 

No comments:

Post a Comment

Post a Comment